আড়াইহাজার প্রতিনিধি: প্রায় একমাসে লাশ হয়ে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিভিন্ন এলাকার চার প্রবাসী শ্রমিক। জীবিকার সন্ধানে কেউ মালয়েশিয়া কেউ সৌদিআরব গিয়েছিলেন।। স্থানীয় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চার প্রবাসী শ্রমিক হয়ে ফিরেছেন। এদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। একজন মারা দেয়ালচাপা পড়ে। জানা গেছে, হারুন অর রশিদ (৩৮) নামে আরো এক প্রবাসীর লাশ এখনো দেশে ফিরিয়ে
আনা হয়নি। তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী গ্রামের সাইদুলের ছেলে।
জানা গেছে, জীবিকার সন্ধ্যানে মালয়েশিয়া পারিজমান ফাউসা এলাকার রুস্তম বেপারির ছেলে জামাল মিয়া (৪৫)। তিনি একটি ইট তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। তিনি ১১ বছর আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশ যান। ২০ জানুয়ারি জামাল থাকার কক্ষেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। ২৩ জানুয়ারি তার লাশ দেশে নিয়ে আসা হয়।
আল-আমিন (৩০)। তিনি উচিৎপুরা ইউনিয়নের আলীসাদীর আবুল কাসেম প্রধানের ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া যান। তিনি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। ২৭ জানুয়ারি কর্মস্থলেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১ ফেব্রুয়ারি তার লাশ দেশে আনা হয়।
মহসিন মিয়া (৩০)। তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নের জোকারদিয়া গ্রামের মৃত মনু প্রধানের ছেলে । মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। ১ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে দেয়ালচাপা পড়ে মারা যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি তার লাশ দেশে আনা হয়।
সারোযারদী (৫৫)। তিনি ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত হোনা মিয়ার ছেলে। তিনি টানা ৩৬ বছর সৌদিআরবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জেদ্দার একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি কর্মস্থলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১২ ফেব্রুয়ারি তার লাশ দেশে আনার হয়।
হারুন অর রশিদ (৩৮)।
তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী গ্রামের সাইদুলের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পারিজমান। নিজের থাকার কক্ষে তালা বদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। দুই বছর আগে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি মানসিক চাপে পড়েন। ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি হঠ্যাৎ মারা যান। তার লাশ এখনোও দেশে ফিরে আসেনি। তবে এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার পুলিশ ভগ্নীপ্রতি ও তার ছোটভাইকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
স্থানীয় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) ফিল্ড অফিসার আমিনুল হক বলেন, মানসিক চাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। নানাভাবে নির্যতনের শিকার প্রবাসীদের বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে আসছি।